ঢাকা ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
সংবাদ শিরোনাম
শান্ত সীমান্ত পরিস্থিতি, টেকনাফ - সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচলের দাবি পটিয়ায় সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত পটিয়ায় শহীদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এলডিপির নেতৃবৃন্দরা উখিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় রোহিঙ্গা শিশু নিহত উখিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় রোহিঙ্গা শিশু নিহত উখিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় রোহিঙ্গা শিশু নিহত কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল: ভোগান্তি মহান একুশের শুভেচ্ছা মহান একুশে ফেব্রুয়ারির শুভেচ্ছা রাঙ্গুনিয়ায় বজলুর রহমান মহাজেরে মক্কী(রহঃ) বার্ষিক ইছালে ছাওয়াব মাহফিল ২১ ফেব্রুয়ারি

মামলা করা যার নেশা ও পেশা_রেহাই পায়নি নিজ ভাই-বোন সহ স্থানীয়রা

#

নিজস্ব সংবাদদাতা

১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩,  1:28 AM

news image

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: ইসমাইল হোসাইন সিরাজী ওরপে টাই বাবুল। পটিয়া পৌরসদরে ৯নং ওয়ার্ড গোবিন্দারখীল এলাকার মৃত ইব্রাহীমের ছেলে। তিনি কখনো প্রকোশলী, কখনো ডাক্তার, কখনো অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা, কখনো হাইকোর্টের এডভোকেট, আবার কখনো নিজেকে পরিচয় দেন বড় প্রফেসর হিসেবে।

এসব ভূয়া পরিচয়কে প্রশাসনের কাছে তুলে ধরে কখনো নিজের, কখনো অন্যের প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে মিথ্যা বানোয়াট মামলা করেন তিনি। অর্থের বিনিময়ে অন্যের ক্ষতি করার জন্য ভাড়া মামলা করায় তার মূল পেশা। গত কয়েকবছরে দেওয়ানী, ফৌজদারি ও এডিএম কোর্টে কমপক্ষে ৩ডজনেরও বেশি ভূয়া মামলা করেছেন তিনি। এছাড়াও থানায় কয়েক শতাধিক অভিযোগ ও করেছেন।

তার করা মামলা থেকে তার নিজ ভাই, বোন, আপন ভাগ্নে, স্থানীয় সাংবাদিক, ব্যাংকার সহ বাদ যায়নি রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে তার এলাকার লোকজনরাও। তার করা মিথ্যা মামলা থেকে পরে অব্যাহতি পেলেও অনেকেই নিজের পৈতৃক সম্পদ এবং নিজের আশ্রয়স্থলও হারিয়েছে। এছাড়াও তার মিথ্যা মামলার শিকার হওয়ার ভয়ে নিজেদের মৌড়শী ও খরিদকৃত জায়গায় যেতে পারছেনা অনেকেই।

এই প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে তার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তার করা হয়রানি মূলক মামলা গুলোর মধ্যে, ২০০৮ সালের ২১ ডিসেম্ভর পটিয়া থানার এফআর নং-১৭, পটিয়া থানার ফৌজদারী মামলা নং- ২৯৫৪-১১, ২০১২ সালের ২০ জানুয়ারি জি.আর মামলা নং-১৬(১), ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্ভর এফআর নং-২৭, ২০১৩ সালের ১৯ এপ্রিল পটিয়া থানার এফআর নং-২৭, ২০১৪ সালের ৮মার্চ পটিয়া থানার এফআর নং ০৮, ভূমি অফিসে মামলা ২৭২-১৩, ভূমি অফিসে মামলা ৬১৯-১৩, মিস মামলা ৩৮৬-২৩, মিস মামলা ৬৪৪-২৩, সিভিল মামলা ৭-১২, সিভিল-২০৮-২৩, এবং সর্বশেষ ২০২৩ সালের ১১ জুলাই জি.আর মামলা নং-২৫৭। এসব মামলা গুলো ছাড়াও তার করা আরো অর্ধশত মামলার ফিরিস্তি এসে পৌছেছে এই প্রতিবেদকের হাতে। তার করা প্রতিটা মামলা মিথ্যা ভিত্তিহীন হওয়ায় সব মামলায় তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন যায়। এসব মামলা গুলো সব হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত যা সে লোভের বশে করেছেন। যাদেরকে তিনি বিবাদী করেছেন সব মামলায় বিবাদীদের পক্ষে রায় গেছে কিংবা আদালত মামলা খারিজ করে দিয়েছেন।

তার করা সর্বশেষ জি আর মামলা ২৫৭ নং এর প্রধান সাক্ষি সাবেক কাউন্সিলর আবু ছৈয়দ বলেন এ মামলা ও ঘটনা সম্পর্কে আমি  কিছুই জানিনা।  এর আগে ও আমাকে সাক্ষী করেছে সে । ইসমাইল হোসেন সিরাজী একজন ঠক ও প্রতারক শ্রেনির লোক। তার বোনের সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে এই মামলা গুলো করে থাকে সে।

মামলার শিকার তার আপন ভাগ্নে আমির খসরু জানান, আমার মায়ের খরিদ এবং মৌড়শী জায়গা আমরা বিক্রি করতে গেলে সিরাজী আমাকে মারধর সহ সহ আমার মা কে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি এবং গুম করে ফেলবেন বলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। যার তথ্য প্রমান আমার কাছে আছে। সিরাজী আমাকে সহ আমার মা, ভাই, বোনকে সহ মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে। আমাদের সে নিস্ব করে দিয়েছে। তিনি বলেন, সিরাজী জাল সনদে বিদেশ ভ্রমন করেন। সে নিজেকে পরিচয় করান প্রকৌশলী হিসেবে। অথচ প্রকোশলী হিসেবে তার কোন বৈধ সার্টিফিকেট নেই।

মামলার শিকার হওয়া স্থানীয় ব্যাংকার আমির হোসেন জানান, তার পৈতৃক জায়গায় অংশ দাবি করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট, হয়রানিমূলক মামলা করেছেন।

মামলার শিকার তার বোন হোসনে আরা বেগম জানান, সে আমার আপণ ছোট ভাই হয়। কিন্তু সে জায়গার লোভে পড়ে নিজের বড় বোনকে পর্যন্ত হামলা, মামলা ও গালিগালাজ করতে সংকোচ করেননা। তার কারনে আমার ছেলেদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে আজ। আমি তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি করছি।

মামলার শিকার তার নিজ ভাই মো.ইদ্রিছ জানান, ইসমাইল আমার নিজ ভাই হয়েও আমাকে সে হয়রানি মূলক মামলা করেছেন।

মামলার শিকার হওয়া উপজেলা শ্রমিক লীগের নেতা রফিক হাসান এই প্রতিবেদককে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একজন পেশাদার মামলাবাজ ইসমাইল হোসাইন সিরাজী। তার কাজ হচ্ছে নিরহ সাধারণ মানুষকে মামলা দিয়ে হয়রানি করা ও নিস্ব করে দেওয়া। তার রোষানল থেকে বাঁচার জন্য পটিয়ার স্থানীয় সংসদ, উপজেলা প্রশাসন সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

logo

সম্পাদক : হেফাজুল করিম রকিব

নির্বাহী সম্পাদক : শাহ এম রহমান বেলাল